Inside BD Crime

Write Your Experience

একজন রুটি বিক্রেতার প্রার্থনা

 


প্রায় হাজার বছর আগের কথা। জগত বিখ্যাত মুহাদ্দিস আহমাদ বিন হাম্বল যখন তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করছেন। চুলে-গোঁফে শুভ্রতা চলে এসেছে,অথচ হাদিস অন্বেষায় নিরলস শ্রমের কোন কমতি নেই। হাদিসের খোঁজে চলে যেতেন দূর দূরান্তে। ঘুরে বেড়াতেন মুহাদ্দিসদের শহরে শহরে।

এমনিভাবে একদিন মুসাফির হয়ে দূরের কোন দেশে হাদিস সংরক্ষণে ব্যতিব্যস্ত। কিন্তু রাতটুকু কোথায় কাটাবেন তা ভাবার আগেই সন্ধ্যা নেমে আসে। অলিগলি ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ একটি মসজিদের দেখা পান। একটু স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়েন। ঈশার আদায় করে যখন সামান্য বিশ্রামের জন্য বিছানায় যাবেন,ঠিক তখন মসজিদের খাদেম এসে আপত্তি তুলেন। মুহাদ্দিসের পরিচয় না জানায় সেখানে থাকার অনুমতি দিলেন না। এক পর্যায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসলেন তিনি।

হাঁটতে হাঁটতে অদূরে একটি বাজার সামনে পড়ে। শীতকালীন সময়। বিক্রেতারা যারযার কাজ নিয়ে আছেন। তেমনি এক রুটিওয়ালা। আগুনের উষ্ণতাপে রুটি গরম করে বিক্রি করছেন। ইমাম আহমাদ আগুনের উষ্ণতা দেখে রুটিওয়ালার কাছে গেলেন। বললেন আপনার এখান থেকে আমি কি আগুনের তাপ পোহাতে পারি? যুবক রুটিওয়ালা বৃদ্ধ শায়েখকে না চিনেও আনন্দের সাথে স্বাগতম জানান।

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল দোকানের সামনে বসে আগুন তাপিয়ে নিজেকে গরম করছেন। রুটিওয়ালা তার কাজে ব্যস্ত। কিন্তু রুটিওয়ালার একটি বিষয় বিশেষভাবে বিন হাম্বলের নজর কাড়ে। রুটিওয়ালা তার প্রত্যেকটি কাজে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ্’ বলেন। যখন তাওয়ায় রুটি দেন তখন বলেন, রুটি নামানোর সময় বলেন,বিক্রির সময়ও বলতে থাকে। কৌতুহলী শায়েখ যুবককে প্রশ্ন করেন ‘আপনাকে সবসময় দেখছি শুধু ‘আস্তাগফিরুল্লাহ্’ বলেন, এই আমলের কারণটি কি আমাকে বলবেন মেহেরবানি করে?’

যুবক রুটিওয়ালা মুচকি হাসেন এবং বলেন, এর বদৌলতেই তো আল্লাহ্ তাআ'লা আমাকে মুস্তাজাবুদ্দাওয়াহ্ (যার প্রতিটি দোয়া আল্লাহ দ্রুত কবুল করে নেন) বানিয়ে দিয়েছেন। সাধারণ একজন যুবকের মুখে এমন কথা শুনে শায়েখ বিস্মিত হন। হন শিহরিত। বিস্ময় লুকাতে না পেরে আবারও প্রশ্ন করেন, তোমার সব দোয়া আল্লাহ্ কবুল করেন! এখন পর্যন্ত যা যা দোয়া করেছো তার প্রতিটিই কবুল হয়েছে!

যুবক বলেন হ্যাঁ। কিন্তু শুধু একটি দোয়া এখনো কবুল হয়নি আমার! শায়েখ জিজ্ঞেস করেন কী সেই দোয়া যা আল্লাহ্ কবুল করেননি? ব্যথিত মন নিয়ে যুবক বলেন,আমি দোয়া করেছিলাম জগত বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের দেখা যেন আমি পাই,তার কপালে চুমু খেয়ে যেন নিজেকে ধন্য করতে পারি। কিন্তু এই মনোবাঞ্ছাটি আমার এখনো পূরণ হয়নি। যুবকের কথা শুনে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের দু-চোখে পানি চলে আসে। দু-হাত বাড়িয়ে যুবককে ডেকে বলেন- হে যুবক তোমার এ দোয়াটিও আল্লাহ কবুল করে নিয়েছেন। রুটিওয়ালা যুবক মশায়েখকে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন। নূরানী কপালে চুমু খেয়ে নিজেকে ধন্য করেন এবং একটি আনন্দঘন মুহূর্তের অবতারণা হয়।

আমরাও পারি আমাদের প্রতিটি কাজ ও কর্মে আস্তাগফিরুল্লাহ্ বলতে। নবীজি আমাদের জন্য হাদীসের বিশাল এক ভান্ডার রেখে গিয়েছেন। হাদীস থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে এই অভ্যাস গড়ে তুলবে তার জন্য আরো চারটি পুরষ্কার থাকবে এবং পাঁচ নাম্বার হলো তার সব দোয়া আল্লাহ দ্রুত কবুল করে নিবেন। আল্লাহ সকলকে তৌফিক দিন।


Share:

ইনোসেন্ট স্টরি

বিদ্যুৎ বিভাগের সামনে এক ব্যক্তি চা, পাউরুটি, কলা বিক্রি করছিলেন। এক কর্মকর্তা চা খেতে গিয়ে ঝুলিয়ে রাখা কলা দেখে কলার দাম জানতে চাইলেন। বিক্রেতা উত্তর দিলেন, কী কাজে ব্যবহার হবে, তার ওপর নির্ভর করছে কলার দাম।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা একটু ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন, ‘অ্যাই মিয়া, তুমি আমার সঙ্গে রসিকতা করো? কলার দাম আবার ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে নাকি? এটা তো সবাই খায়!’

বিক্রেতা আবার বলেন, ‘না স্যার, কলারও বহুবিধ ব্যবহার আছে এবং সেই মোতাবেক দামেও তারতম্য আছে?’

-যেমন?

-কোনো ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করলে প্রতি কলা দুই টাকা। রোগীর জন্য কিনলে তিন টাকা আর আপনি খাওয়ার জন্য কিনলে পাঁচ টাকা।

কর্মকর্তা রেগে বললেন, ‘দূর মিয়া, একই কলার আবার এমন আলাদা আলাদা দাম হয় নাকি?’

কলা বিক্রেতা নিরুত্তেজ কণ্ঠেই বললেন, ‘কেন হবে না স্যার? একই বিদ্যুতের যদি বাসাবাড়িতে এক মূল্য, দোকানের জন্য অন্য মূল্য আবার কারখানায় নিলে আরেক দাম হতে পারে, তাহলে কলার দাম আলাদা আলাদা হলে অসুবিধা কোথায়?’

শিবরাম চক্রবর্তী একবার গামছা পরে কুয়া থেকে জল তুলছিলেন। এমন সময় এক ভদ্রমহিলা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, ‘সে কী মশাই, আপনি এত বড় বংশের ছেলে, আপনার বাবা এত বড় একজন লোক, আর আপনি কিনা এভাবে গামছা পরে জল তুলছেন? শিবরামের জবাব: বংশ তুললেন, বাপ তুললেন, তাতেও হলো না, শেষে কিনা গামছা তুলে অপমান করলেন?শিবরাম চক্রবর্তীকে একবার একজন প্রশ্ন করলেন, ‘আপনার স্ত্রীকে যদি ভূতে ধরে আপনি কী করবেন?’

শিবরাম ঠান্ডা গলায় আস্তে করে বললেন, ‘আমি আর কী করব? ভুল যখন ভূতের, তখন ভূতই বুঝবে কাকে ধরেছে!’

স্কুলের শিক্ষক এক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘গ্রাম আর শহরে তফাত কী?’

ছাত্র: গ্রামের মানুষ গরু পালন করে আর শহরের মানুষ কুকুর পালন করে। গ্রামে অশিক্ষিত লোক গরু চরায় আর শহরে শিক্ষিত লোক কুকুর চরায়।

Share:

মূল্যবৃদ্ধি ও রাজবুদ্ধি

 


বাজারের এক হোটেলে এক দোকানমালিক প্রতিটি পরোটা বিক্রি করতেন পাঁচ টাকা দরে। হঠাৎ আটার দাম বেড়ে যাওয়ায় দোকানদার বিপদে পড়লেন। পাঁচ টাকায় পরোটা বেচে তাঁর পোষায় না। আবার পরোটার দামও বাড়াতে পারছিলেন না। কারণ, ওই দেশে রাজার অনুমতি ছাড়া কোনো জিনিসের দাম বাড়ানো ছিল দণ্ডনীয় অপরাধ।

নিরুপায় দোকানদার একদিন রাজার সঙ্গে দেখা করে বললেন, ‘মহারাজ, পরোটা বিক্রির আয় দিয়ে আমার সংসার চলে। কিন্তু পাঁচ টাকায় পরোটা বিক্রি করলে আমার লোকসান হয়। আমি তাই পরোটার দাম বাড়িয়ে ১০ টাকা করতে চাই।’

রাজা বললেন, ‘তুমি তোমার পরোটার দাম ১০ টাকা নয়, ৩০ টাকা করে দাও।’

দোকানদার বললেন, ‘মহারাজ, এক লাফে এত দাম বাড়ালে রাজ্যবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেবে।’

রাজা বললেন, ‘সে চিন্তা তোমাকে করতে হবে না, তুমি তোমার ফায়দার চিন্তা করো, তুমি এখন থেকে ৩০ টাকা করে পরোটা বেচবে।’

রাজার কথায় পরদিন থেকেই তাঁর পরোটার দাম বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হলো।

শহরজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলো। প্রতিবাদী মানুষ রাজার কাছে ছুটে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বলল, ‘মহারাজ, ও তো জনগণের ওপর অত্যাচার শুরু করেছে, ৫ টাকার পরোটা ৩০ টাকায় বিক্রি করছে।’ 

রাজা সিপাইকে আদেশ দিলেন, ‘এই মুহূর্তে ওই মুনাফালোভী ব্যবসায়ীকে রাজদরবারে ধরে নিয়ে এসো।’

ওই ব্যক্তি রাজদরবারে উপস্থিত হওয়ামাত্র রাজা হুংকার দিয়ে উঠলেন, ‘তোর এত বড় সাহস, আমার রাজ্যে বাস করে তুই পরোটার দাম এত বাড়িয়ে মানুষকে উপোস করিয়ে মেরে ফেলতে চাস? কাল থেকে তুই পরোটা আধা দামে বিক্রি করবি, নইলে আমি তোকে শূলে চড়াব।’

রাজার আদেশ শুনেই প্রজারা ‘জয়, মহারাজের জয়’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তুলল।

রাজার আদেশে ৫ টাকার পরোটা ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রজারা খুশি, ব্যবসায়ী খুশি। একেই বলে রাজবুদ্ধি!

 

 


Share:

ইনোসেন্ট স্টরি - আজকের আবহাওয়া কেমন থাকবে?

“রাজা তার আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে ডেকে জিজ্ঞাস করলেন-

: আমি মৎস শিকারে যেতে চাই , আজকের আবহাওয়া কেমন থাকবে বলে জানা গেছে ?
সে বল্লো -
: আজকে অতীব সুন্দর, রৌদ্রোজ্জ্বল এবং চমৎকার আবহাওয়া থাকবে জাহাপনা ! আপনি নিঃশংক চিত্তে যেতে পারেন ।
রাজা বের হলেন । রাজা যখন সাগর পাড়ে গেলেন , সাগর পাড়ে এক জেলে ছাগল চড়াচ্ছিলো , সে বললো-
: মহারাজ আজকে কেন আপনি সাগরে যাচ্ছেন ? একটু পরেই তাে ঝুম বৃষ্টি হবে !
রাজা রেগে বল্লেন -
: বেটা জেলের বাচ্চা ! তুই কি জানিস আবহাওয়ার খবর ? আর আমাকে কি মূর্খ পেয়েছিস! আমি খবর জেনে তবেই এসেছি ।
রাজা সাগরে গেলেন , কিছুক্ষণ পর শুরু হলাে ঝুম বৃষ্টি ! রাজা প্রাসাদে ফিরে এসে আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে বরখাস্ত করলেন, তারপর ঐ জেলেকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন ! জেলে তো পড়লাে মহা বিপদে! সে তাে আবহাওয়ার কিছুই জানে না! রাজ দরবারে গিয়ে জেলে কেঁদে বল্লো-
: মহারাজ আমাকে যেতে দিন! আমি আসলে আবহাওয়ার কিছুই জানি না।
রাজা বল্লো -
: তাহলে ঐ দিন আমার আবহাওয়া বিভাগে চেয়েও সঠিক খবর তুই কি করে দিলি !
জেলে উত্তর দিল ,
: মহারাজ সেখানে আমার কোন কৃতিত্ব ছিল না ! সব কৃতিত্ব আমার ছাগলের ! বৃষ্টি আসার আধাঘন্টা আগে থেকে ছাগলটা ঘনঘন মুতে ! এর থেকে আমি বুঝতে পারি একটু পর বৃষ্টি হবে !
তারপর রাজা জেলেকে ছেড়ে দিয়ে তার ছাগলটাকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন ! সেই থেকেই বড় বড় পদগুলােতে ছাগল নিয়ােগ দেওয়ার রীতি চালু হয়।”
Collected
Share:

ALL NEWS

Facebook

Powered by Blogger.

Search This Blog

Blog Archive

Recent in Sports

Home Ads

Facebook

Ads

Random Posts

Recent

Popular

Recent Posts

List

ADS