Inside BD Crime

Write Your Experience

উত্তরায় লাইসেন্সবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক লেগুনা চালক




উত্তরা মাসকট প্লাজা এবং নর্থ টাওয়ার টাওয়ারের নিচে গড়ে ওঠেছে অবৈধ লেগুনা স্ট্যান্ড। একের পর এক লেগুনা ভিড় জমায় এ স্ট্যান্ডে। এলোমেলোভাবে এগুলো পার্ক করে, রাস্তার মাঝখানে নামানো হয় এবং মাঝখানে উঠানো হয় যাত্রীদেরকে। এতে চলাচলে সমস্যা হয় গাড়িগুলো এবং পথচারীদের। পথচারী রায়হান বলেন, সারা দিন এখানে লেগুনা ভিড় জমিয়ে একের পর এক যাত্রী উঠাতে থাকে। লেগুনার জন্য হাঁটতে পারি না। লেগুনাযাত্রী সুফিয়া বেগম বলেন, এ লেগুনাগুলোর জন্য পুরোটা রাস্তায় জট লেগে থাকে। সকালে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় যানজটের কারণে অনেক দেরি হয়ে যায়। এখন মেট্রোতে যাওয়ার জন্য অনেকে এই পথটা বাছাই করে নিয়েছেন । এ রাস্তা দিয়ে বাস চলাচল করে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত ।

লেগুনাগুলো রাস্তায় ভিড় করে না দাঁড়িয়ে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়ালে রাস্তায় এত যানজটের সৃষ্টি হতো না। এখানে দাঁড়ানোর অনুমতি আছে কি না, জানতে চাইলে লেগুনা চালক শফিক বলেন, আমরা এখানে সবসময় গাড়ি রাখি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্র্যাফিক পুলিশ বলেন, রাস্তাটিতে লেগুনা পার্ক করা অবৈধ। তবে যাত্রী নামানোর জন্য গাড়ি দাঁড় করার অনুমতি আছে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে রাখলে ওদের উঠিয়ে দেয়া হয়।

অবৈধ লেগুনা ছুটে চলে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত। প্রতিদিন চলে শতাধিক লেগুনা। সরকার নিষিদ্ধ করলেও এই রুটে লেগুনা চালায় সিন্ডিকেট। যার নেই কোনো রসিদ বা টোকেন। এভাবে চালক এবং মালিকদের থেকে সিন্ডিকেটের মাসে আয় লাখ লাখ টাকা। পুলিশ প্রশাসন, সরকার দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মহলে এই টাকা ভাগ হয় বলে জানিয়েছেন লেগুনা মালিকরা।



চালক এবং লেগুনা মালিকদের অভিযোগ, দিনের আলোতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয় না পুলিশ।

 উত্তরা এলাকায় লেগুনা পরিবহনের লাইনম্যান পরিচয়ে চাঁদা আদায় করছিলেন আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে চাঁদাবাজির কথা কালের কণ্ঠের কাছে স্বীকারও করেছেন তিনি। লেগুনাপ্রতি ৩০ টাকা নিচ্ছেন এই সিন্ডিকেট সদস্য।

তবে আব্দুর রহমানের দাবি, ৩০ টাকা নয়, ১০ টাকা করে নিচ্ছেন তিনি।

কেন লেগুনা থেকে চাঁদা নিচ্ছেন? এমন প্রশ্নে আব্দুর রহমান সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, ‘এই টাকা দিয়ে বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালাই। অসুস্থ মানুষ, পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমে চাঁদা তুলছি।’ কার কথায় চাঁদা তুলছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরশ (হাসানুজ্জামান পরশ) ভাইয়ের হয়েই কাজ করি।’

বেশির ভাগ পরিবহনের নেই কোনো রোড পারমিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। চাঁদা দিয়েই দীর্ঘদিন যাবৎ এ সড়কে চলাচল করছে এ সকল অবৈধ লেগুনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ লেগুনাচালক ও হেলপার অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের কাছে নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। এ মহাসড়ক দিয়ে চলা অধিকাংশ লেগুনার অবস্থাও বেহাল। লক্কড়ঝক্কড় গাড়িগুলো বছরের পর বছর চললেও দেখার যেন কেউ নেই। পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিনিয়তই একপ্রকার আয়েশেই চলাচল করে মহাসড়কে নিষিদ্ধঘোষিত লেগুনা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সড়কে দুই শতাধিক লেগুনা চলে ‘পরশ ও পলাশ সিন্ডিকেট’কে চাঁদা দিয়ে। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হাসানুজ্জামান পরশ পরিচয় দেন লেগুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। চাঁদাবাজি করেই হীরাঝিল এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিক জমি, পাঁচ-সাতটি লেগুনাসহ মাত্র কয়েক বছরে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি। বিভিন্ন পরিবহন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার হলেও হাসানুজ্জামান পরশের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি এখনো। পরশের হয়ে মোড়ে মোড়ে চাঁদা তোলে তার লোকজন।

শিমরাইল এলাকায় নিজেই থাকেন হাসানুজ্জামান পরশ। সেখানে 'চিটাগাং রোড লেগুনা মালিক সমিতি'র নামে আতিকুর রহমান আতিক মিয়াসহ পরশ সিন্ডিকেট প্রতিদিন দুই শতাধিক লেগুনা থেকে ৪৫০ টাকা করে তোলে। এতে দিনে প্রায় লাখ টাকা তুলে নেয় এই চক্র। এ ছাড়াও ওই এলাকায় আব্দুর রহমান, মনির হোসেন ও শহিদ মিয়া প্রতি গাড়ি থেকে নেন ৩০ টাকা। অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় চলে পলাশ মিয়ার সিন্ডিকেট। ওই এলাকায় তার হয়ে আরিফ মোল্লা, সাঈদ মিয়া, কাউসার মিয়া, অনিক হোসেন, শাহ আলম মিয়া, নয়ন মিয়াসহ কয়েকজন চাঁদাবাজ প্রতি লেগুনা থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। মোড়ে মোড়ে এই চাঁদাবাজদের টাকা দিতে হয় লেগুনাচালক এবং মালিকদের। মাসে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।

সিদ্ধিরগঞ্জ আজিবপুর বাগানবাড়ী এলাকায় নূরু মিয়ার ছেলে আতিকুর রহমান আতিক দীর্ঘদিন যাবৎ লেগুনা থেকে চাঁদা আদায় করে হয়েছেন বাড়ি ও গাড়ির মালিক। রয়েছে সাত-আটটি লেগুনা পরিবহন। প্রশাসনের ভয়ে মাঝে মাঝে এলাকা থেকে গাঢাকা দেন আতিক। তবে কিছুদিন পরেই ফেরেন সহাসড়কে চাঁদাবাজরূপে।

শিমরাইল এলাকায় চলাচলরত লেগুনাচালক বরকত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাধ্য হয়েই চাঁদা দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। চাঁদা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানিসহ গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়। লাইনে নতুন গাড়ি নামাতে হলে এককালীন হিসেবে চাঁদা দিতে হয় ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।’

সিন্ডিকেট প্রধান হাসানুজ্জামান পরশ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জাড়িত না। এই সড়কে আমার কয়েকটি লেগুনা রয়েছে। এ সকল লেগুনা থেকে ভাড়া উত্তোলন করে সংসার চালাই। সমিতির নামে যে টাকা ওঠাই তা থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে দিতে হয়।’

শিমরাইল এলাকায় দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের এএসআই আলাউদ্দিন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি এক বছর যাবৎ শিমরাইল মোড়ে দায়িত্ব পালন করছি। পুরো সময় ধরে প্রতিদিনই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লেগুনা চলাচল করছে। এ বিষয়টি বড় স্যারদের নজরে আছে। তারাই ভালো বলতে পারবেন।’ 


Share:

‘ম্যানেজ’ করে রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ লেগুনা

 

বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজধানীর সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ লেগুনা। ভাড়াসহ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় ঢাকায় লেগুনা-সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো অভিযোগ জানানোর সুযোগও নেই। বেশ আগে সরকারিভাবে ঢাকার সড়ক থেকে লেগুনা তুলে দেওয়ার ঘোষণা এসেছিল। কিন্তু সেই ঘোষণা বেশি দিন কার্যকর থাকেনি। ভাড়াসহ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় লেগুনা-সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগ নেই যাত্রীদের। যার কারণে যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে এই যানবাহন ব্যবহার করছে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের মূলসড়কে চলাচলরত লেগুনা চালক ও হেলপাররা অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। লাইসেন্সবিহীন বেপরোয়া চালকদের হাতে স্টিয়ারিং জেনেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। যাত্রীদের অভিযোগ, যথাসময়ে বাস না পাওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট রুটে বাসের সার্ভিস না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে এ সব লেগুনায় চলাচল করছে। যার কারণে লেগুনা চালকদের হাতে অনেকটা জিম্মি তারা।

রাজধানীর, বাড্ডা, বাসাবো, ফকিরাপুল, মতিঝিল, মালিবাগ, গুলিস্তান, আদাবর, আসাদগেট, ফার্মগেট, শেরেবাংলা নগর, মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও উত্তরা, আজমপুর, আজিমপুর, লালবাগ, সেকশন, মিরপুর বেড়িবাঁধ, মোহাম্মাদপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ঘুরে দেখা যায় এ সব অবৈধ লেগুনা দেদারছে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ট্রাফিক পুলিশ অবৈধ লেগুনার জন্য আলাদা করে লেন বানিয়ে লেগুনা স্ট্যান্ড করে এবং গাড়ি চলাচলের রাস্তাটাকে ছোট করে ফেলে। ট্রাফিক পুলিশ এসব গাড়ি কম ধরে আর ধরলেও ছেড়ে দেয়। এলাকা ভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক নেতা এ সব লেগুনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে মিশে রাস্তায় চলাচল করিয়ে থাকেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড়ে কথা হয় ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টের সঙ্গে। ওই সার্জেন্ট জানান, বেড়িবাঁধ থেকে লালবাগ হয়ে যেসব লেগুনা চলাচল করে এসব লেগুনা ধরার মতো আমাদের ক্ষমতা নেই। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের উপরের স্যারেরা বলেন, এ সব লেগুনার মালিক বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিরা। এর সঙ্গে সরকারের দলীয় লোকজনও জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়। আমরা ছোট চাকরি করি এজন্য এ সবের পেছনে লাগতে চাই না।

ছোট ছোট কিশোরদের দিয়ে এ সব লেগুনা চালনা করে আপনারা আইনগত ব্যবস্থা নেন না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে ওদের ধরে মালিককে জানাই, পরে আবার ছেড়ে দিতে হয় এজন্য এখন আর লেগুনা ধরি না। চাকরি জীবনের শুরু দিকে কয়েকদিন ধরেছি এখন আর ধরি না।

ফার্মেগেটের যাত্রী রবিন, আজিমপুরের যাত্রী নজরুল ও মিরপুর থেকে ইন্দিরা রোডের যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, রাজধানীর বিভিন্নস্থানে চলাচল লেগুনা চালকদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। অনেকেরই নেই লাইসেন্স। এ লেগুনা চালকদের হাতে জিম্মি আমাদের মতো হাজার হাজার যাত্রী। লেগুনা কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের গলাকাটছে, নিচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া— যা দেখার কেউ নেই। গাড়ির চালকরা রাস্তায় যেমন খুশি তেমনই চলাচল করে। ট্রাফিক পুলিশ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এ সব লেগুনার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন। আর এ ব্যয় মেটাতে লেগুনা মালিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অযৌক্তিকভাবে ভাড়া আদায় করেন। কোনো কারণ ছাড়াই রাজধানীতে লেগুনার ভাড়া বেড়েই চলেছে।

বিআরটিএ এর তথ্য মতে, কয়েক বছর আগে লেগুনাকে মিনিবাস গণ্য করে ভাড়া নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু পরে বিআরটিএ’র একটি মিটিং এ লেগুনাকে রুট পারমিট দেওয়া হয় না। এরপর থেকেই মেইন রোডে চলাচলের জন্য এই যানবাহনটিকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিআরটিএ জানায়, ভবিষ্যতে লেগুনা থাকবে না। এটি উঠে যাবে এই পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সরকারিভাবে লেগুনাকে বলা হয়, ‘হিউম্যান হলার’ কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাষ্য অনুযায়ী এটাকে বলে ‘লেগুনা’।

তাদের হিসেবে, শুধুমাত্র ঢাকায় লেগুনা আছে প্রায় ৫ হজারেরও বেশি। তবে বাস্তবে এ সংখ্যা আরও কয়েক গুণ।

লালবাগ-আজিমপুরে কথা হয় লেগুনার যাত্রী আবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার বাসা সেকশন। প্রায় দিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। মাঝে এই রোডে লেগুনা বন্ধ ছিল। ২০২২ সালের শুরুতে নতুন করে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই রাস্তায় চলাচল করছে অবৈধ লেগুনা।

শুধু আজিমপুর নয়— মিরপুর, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়িসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে এ সব অবৈধ যানগুলো চলাচল করছে। তাদের ক্ষেত্রে পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া একটু কম দেখা গেছে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ১৭টি নির্দেশনা আসে। সেই নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ওই নির্দেশনার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজধানীর মূল সড়ক ও রাজপথগুলোতে লেগুনা চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হলো। সেই ঘোষণার পর বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবারো অবাধে চলাচল শুরু করেছে এ সব অবৈধ যানগুলো।

এ সব যানবাহন পরিচালনার কাজে যুক্তরা বেশির ভাগ শিশু-কিশোর ও যুবক বলা যায়, অধিকাংশ চালক ও হেলপার অপ্রাপ্তবয়স্ক। লেগুনা চালক ও হেলপারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তারা বিভিন্ন রোডে মালিকের কথা মতো চলাচল করেন। এবং তাদের লাইনের কোনো ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এ সব গাড়ি আটকিয়ে রাখেন না। যদি অন্য লাইনে বা রোডে তারা প্রবেশ করে তাহলে সেই জোনের ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করলে রাজনৈতিকভাবে ও প্রশাসনিক (পুলিশের) মাধ্যমে এ সব গাড়ি ও চালকদের ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।

ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে কথা হয় ঢাকা মেট্রো-হ ১৪-১৪৫১ নম্বর এর লেগুনা চালক হিরোনের সঙ্গে। হিরোন বলেন, পুলিশে রাস্তায় আটক করলে আমরা মালিককে ফোনে ধরিয়ে দেই। এরপর মালিক তাদের সঙ্গে কি কথা বলে সেটা তো আমাদের জানা নেই।

মিরপুর টু মহাখালী এলাকার লেগুনা চালক নাছির বলেন, আমাদের রোড হলো মিরপুর থেকে মহাখালী পর্যন্ত। এর বাইরে চললে পুলিশে ধরে এজন্য এর বাইরে যাই না।

ফার্মগেট টু নিউমার্কেট রোডের লেগুনার মালিক আহমেদ চুন্নু হক বলেন, পুলিশের কাছ থেকে বিশেষভাবে এসব লেগুনার রুট পারমিট নেওয়া আছে। রুট পারমিট কীভাবে পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনাকে তো এ সব কথা বলতে পারবো না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশেরও অনেক লোক আমাদের ভাই ব্রাদার। আমাদের ভেতরের খবর আপনাকে বলবো কেন?

এ বিষয়ে ফার্মগেটের আনন্দ পরিবহনের মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ খান বলেন, আমরা রাস্তায় নিয়ম মেনেই চলাচল করি। আপনাদের কোনো অভিযোগ থাকলে ট্রাফিক বিভাগ বা সিটি করপোরেশনকে বলেন। তা ছাড়া এই ব্যাপারে আপনার সঙ্গে আমরা কথা বলতে চাই না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনসহ লেগুনায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া-নৈরাজ্যের অভিযোগ দেয় যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ঢাকায় লেগুনা চললেও এটা কোনো নিয়মের মধ্যে আসেনি। অধিকাংশ চালকদের নেই লাইসেন্স। এই যানবাহন চলাচলের জন্য অনেক প্রভাবশালীরা যুক্ত রয়েছে যার কারণে সাধারণ যাত্রীরা এদের কাছে জিম্মি। যাত্রীদের ইচ্ছা থাকলেও এর বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না।

রাজধানীতে লেগুনার অবাধ চলাচল সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক প্রধান) মনিবুর রহমান ঢাকাপ্রকাশ’কে বলেন, আপনি যে সব লেগুনার কথা বলছেন সেগুলো কি নিয়মের মধ্যে আছে কি না। সেই সব বিষয়টি আগে দেখা দরকার। আর যেগুলো নিয়মের বাইরে চলছে সেগুলো আমরা দেখব। তিনি বলেন, তবে এ সব লেগুনার সঙ্গে আমাদের ট্রাফিক পুলিশের কোনো সর্ম্পক নেই।

মনিবুর রহমান বলেন, লেগুনার কিছু অনুমতি আছে। তবে তাদের মূল সড়কে চলাচলে নিষেধ করা আছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের অলিতে গলিতে তারা চলাচল করে। যাদের লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তা ছাড়া এদের সঙ্গে আমাদের পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। আর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জড়িত কি না সেটা আমাদের জানা নেই।

পুলিশের নাকের ডগায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অনুমোদনহীন লেগুনা

অনুমোদন না থাকলেও রাজধানীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হিউম্যান হলার বা লেগুনা। ট্রাফিক পুলিশের নাকের ডগা দিয়েই রাজপথে বেপরোয়া রাজত্ব এই পরিবহনের। লেগুনার যেমন নেই বৈধ কাগজ, তেমনি এর চালকদেরও নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দিয়েই সবকিছু ম্যানেজ হচ্ছে বলে দাবি চালকদের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সুপারেনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার (ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেল) কাজী মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনও ব্যবস্থা নেবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, লেগুনা তো অনুমোদিত না। এটা দেখার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের। আপনার শাস্তি দেন।

ট্রাফিক (দক্ষিণ) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর মূল সড়কগুলোতে লেগুনা উঠলে আমরা ডাম্পিং করে দিই। কারণ সেগুলো কোনো অনুমোদিত গাড়ি না।  

লেগুনা চালক হাসানের স্বীকারোক্তিতেই উঠে এসেছে এই পরিবহনের নানা অনিয়মের কথা। আর অবৈধ পরিবহন চোখের সামনে দিয়ে কেন চলছে? এ প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক জবাব নেই ট্রাফিক পুলিশের কাছে।

চালক হাসান বলেন, গাড়ির কাগজপত্র তো সারাজীবনই ফেল! পুলিশ ধরলে তাদেরকে নাস্তাপানির জন্য এক থেকে ১৫০ টাকা দিলেই ছেড়ে দেয়।

ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, শুধু লেগুনা না, অবৈধ সব ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।

দুরন্ত সময়কে আয়ত্তে আনতে নগরবাসী প্রতিনিয়তই ব্যবহার করছেন ঝুঁকিপূর্ণ এই যানবাহন। তবে চলতে হলে দরকার সঠিক ব্যবস্থাপনা।

বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ বলেন, যেখানে সেখানে লেগুনা না থামানো এবং না উঠার বিষয়ে নাগরিকদের একটা দায়িত্ব রয়েছে, সচেতনতার ব্যাপার রয়েছে।

তথ্য বলছে, যাত্রীসেবার নামে রাজধানীর মহাসড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ, ফিটনেসবিহীন প্রায় ৩০ হাজার যাত্রীবাহী লেগুনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার দ্বারাই এই লেগুনা হয়ে উঠতে পারে, রাজধানীর একটি নির্ভরযোগ্য যানবাহন।







Share:

ঢাকার ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির দুই হাজার কোটি টাকা কারা পায় ?

 

ঢাকার ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির দুই হাজার কোটি টাকা কারা পায় ?
ঢাকার ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির দুই হাজার কোটি টাকা কারা পায় ?

ফুটপাত শব্দটি শুনলেই আমাদের মস্তিষ্কে চলে আসে প্রধান সড়কের পাশের নির্দিষ্ট বাঁধানো পথ, যে পথ দিয়ে খুব সহজেই মানুষ চলাচল করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটপাতগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশের শহরগুলোর অধিকাংশ রাস্তার ফুটপাতে দেখা যায় নানা রকম বিকিকিনির স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান। রাজধানীর ফুটপাতগুলো যেন চাঁদাবাজির হাটবাজার। অপর দিকে পুলিশ, প্রশাসন এবং কিছু রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের অসাধু কর্মকর্তা বা কর্মীরা এসব স্থায়ী-অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফুটপাত বেদখলে সহায়তা করছেন।


ফুটপাতের হকার ও স্থায়ী–অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই শহর বা গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষ। এসব হকার ও স্থায়ী-অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে গ্রামের ভূমিহীন কৃষক, নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষ, অল্প শিক্ষিত বেকার—যাঁরা খুব অল্প কিছু মূলধন জোগাড় বা অল্প সুদে ঋণ গ্রহণ করে ব্যবসায় নেমেছেন। অপর দিকে ফুটপাতের ব্যবসায় পুঁজি কম লাগে, একা পরিচালনা করা যায়, ভাড়া বা সিকিউরিটি মানি দিতে হয় না—তাই মানুষ তুলনামূলকভাবে ফুটপাতের ব্যবসাকে লাভজনক মনে করেন। আর এসব ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠছে নানা রকম চাঁদাবাজ চক্র, যারা অর্থের বিনিময় এসব হকার ও ক্ষুদ্র স্থায়ী-অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের ফুটপাত দখল করে বসার সুযোগ করে দিচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আমরা দেখি, ফুটপাতে যেসব দরিদ্র শ্রেণির মানুষ ব্যবসা করেন, তাঁদের নানা রকম বিপদ–আপদের সম্মুখীন হতে হয়। সম্মুখীন হতে হয় নানা রকম চাঁদাবাজ চক্রেরও। চক্রের সদস্যদের নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। নিয়মিত এসব চাঁদাবাজদের অর্থ দিতে না পারলে হকার বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ফুটপাতে বসতে দেওয়া হয় না। রাজধানী ঢাকার প্রধান কিছু সড়ক—নিউমার্কেট, মতিঝিল, গুলিস্তান, পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, পল্টন, বায়তুল মোকাররম, আরামবাগ, উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান সহ অনেক জায়গায় লক্ষ করা যায় ফুটপাতে হকার ও স্থায়ী-অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের রমরমা বাণিজ্য। প্রত্যেক হকার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২০০–৫০০ টাকা পর্যন্ত নানা অনুপাতে প্রতিদিন চাঁদা তোলা হয়।

২০২০ সালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে মোট হকার আছেন তিন লাখ, যাঁদের গড়ে ১৯২ টাকা করে দৈনিক চাঁদা গুনতে হয়। সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে একটি চক্র। সংঘবদ্ধ এ চক্রের পেছনে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ।

ফুটপাতে দোকান করতে হলে চাঁদা দিতে হয়, না দিলে দোকান ভেঙে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় অথবা পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী হকাররা বলেন, ‘চাঁদা না দিলে পুলিশ দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানা থেকে ছাড়া পেতে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। আবার চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মারধর করে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

বর্তমানে চাঁদাবাজি এতটাই প্রকট আকার ধারণ করছে যে এ ক্ষেত্রে দুটি গ্রুপ কাজ করছে—একটি গ্রুপ ফুটপাতে অবৈধ দোকানগুলো থেকে ভাড়া আদায় করছে, আরেকটি গ্রুপ চাঁদার টাকা তুলছে। অবৈধ এ টাকার জোরেই ফুটপাত কখনোই পুরোপুরি হকারমুক্ত হয় না। ফুটপাত দখলে নেওয়ায় রাজধানীর অনেক স্থানেই সংকুচিত মানুষের চলার পথ, বাড়ছে যানজট। কোথাও অবৈধ স্থাপনার কারণে, কোথাওবা বিভিন্ন মালামাল রেখে দেওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েন পথচারীরা। অনেক সময় ফুটপাথের পরিবর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারীদের। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) হিসেবে, সারা দেশে দুর্ঘটনায় নিহতের ৪৪ শতাংশ পথচারী এবং শুধু ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পথচারীর সংখ্যা ৪৭ শতাংশ।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণা অনুযায়ী, দুই সিটি করপোরেশনের ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে বছরে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এত বিপুল টাকা কোথায় যায়, কার পকেটে যায়, সেটির খোঁজ কেউ রাখেন না। ফুটপাথে অবস্থানরত হকাররা জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্পর্কে জ্ঞান না রাখলেও জাতীয় অর্থনীতিতে কোনো না কোনোভাবে এই অংশের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। ফুটপাতে অবস্থিত হকারদের একটি ভালো বিষয় হলো তাঁদের কল্যাণে ঢাকার রাস্তার কোটি কোটি টাকার পচনশীল পণ্য ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলতে গেলে, আমরা রাস্তায় চলাচলের সময় প্রায়ই লক্ষ করে থাকি, বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েরা নানা রকম ফলমূল (যেমন: পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, শসা, আমড়া, জাম্বুরা ইত্যাদি) বিক্রি করে থাকে। এসব ফলফলাদি পচনশীল, তারা যদি এসব পণ্য ফুটপাতে বিক্রি না করত, তাহলে কৃষকের এসব পচনশীল পণ্য খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যেত, যার ফলে কৃষকও তাঁর ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতেন।

পরিশেষে এটি বলা যায়, সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফুটপাতের হকার বা স্থায়ী-অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের যদি একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলের মধ্যে আনা যায়, তাঁদের সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায় এবং চাঁদাবাজ চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তাহলে জাতীয় অর্থনীতি, পথচারী ও দরিদ্র হকার শ্রেণি—সবার জন্যই সুফল বয়ে আনা সম্ভব হবে।




Share:

অর্থ পাচারের কথা বললেও রিং আইডির আসামিদের ছাড় দিল সিআইডি

রিং আইডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন ইসলামছবি: সংগৃহীত
অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে যেসব প্রতিষ্ঠান, সেগুলোর একটি রিং আইডি। দেড় বছর আগে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা গ্রাহকদের ৩০২ কোটি টাকা অন্যত্র সরিয়ে নেন। তার মধ্যে ৩৭ কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাৎ করেছেন।

নিজে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে স্ত্রীকে করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। আর ভাই সাইফুলকে করেন পরিচালক। রিং আইডির গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের খবর প্রকাশের পর ২০২১ সালে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি। 

এক বছর অনুসন্ধানের পর ২০২২ সালের আগস্টে রাজধানীর গুলশান থানায় রিং আইডির ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করে সিআইডি। তখন সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ঘরে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে দিনে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয় রিং আইডি। তাদের ৫টি ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৩৭৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩০২ কোটি টাকা প্রতিষ্ঠানটির ৫টি ব্যাংক হিসাব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই অর্থের মধ্যে ৩৭ কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাৎ করা হয়, যার ৩৩ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়।

২০২১ সালে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির তৎকালীন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক কামরুল আহসান জানান, সিআইডির অনুরোধে রিং আইডির প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক জব্দ করেছে। তাদের আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ আরও বেশি।

 

Share:

বাড্ডায় ঈদ কার্ড পাঠিয়ে চাঁদা চাইছেন ছাত্রলীগ নেতা


Share:

কিশোর গ্যাং–এর হাত থেকে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মরে গেলেন

কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মারধর থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আহত বাবা আজ বুধবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেনছবি: সংগৃহীত

‘কিশোর গ্যাং–এর হাত থেকে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মরে গেলেন। বাবাকে ছাড়া আমি বাঁচব কীভাবে। ওরা আবারও মারলে, কে আমাকে বাঁচাতে আসবে।'

এই প্রশ্ন চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসার ফাজিল শিক্ষার্থী আলী রেজার। কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে লাইফ সাপোর্টে গিয়েছিলেন চিকিৎসক বাবা। শেষ পর্যন্ত আর বাঁচেননি তিনি। আজ বুধবার সকাল ৬টা ৭ মিনিটে নগরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাবা কুরবান আলী (৬০)। সকালে ছেলে আলী রেজার সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর।

একই শঙ্কা আলী রেজার মা পারভীর আক্তারের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বামীকে হারিয়েছি। এখন ছেলেকে বাঁচাব কী করে।’

গত শুক্রবার বিকেলে আকবর শাহ থানার পশ্চিম ফিরোজ শাহ হাউজিং এলাকার জে লাইন দিয়ে যাচ্ছিলেন আলী রেজা। তখন দুজন স্কুলছাত্র তাঁর সাহায্য চায়। তাদের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মারধর করছিলেন। তিনি ৯৯৯-এ কল দেন। পুলিশ এসে একজনকে ধরে নিয়ে যায়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় ইফতারি কিনতে বের হন আলী রেজা। তখন তাঁকে পেয়ে মারধর করতে থাকেন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন তাঁর বাবা। একপর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ইটের আঘাতে তাঁর বাবা মাথায় গুরুতর আঘাত পান। প্রথমে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আলী রেজার ভাষ্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সবাই স্থানীয় যুবলীগ নেতা গোলাম রসুল নিশানের অনুসারী। তাঁদের সঙ্গে তাঁর কোনো পূর্বশত্রুতা নেই। আলী রেজা নগরের একটি মাদ্রাসায় ফাজিলে পড়েন।

এ ঘটনায় গত শনিবার আলী রেজা বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আকবর শাহ থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি হিসেবে মো. সামির, মো. রিয়াদ, সোহেল ওরফে বগা সোহেল, মো. আকিব, মো. অপূর্ব, মো. নিশান, মো. রাজু, মো. সাগর, মো. বাবু, মো. রাজু, মো. সংগ্রাম ও মো. সাফায়েতের নাম উল্লেখ করেন। এ ছাড়া আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে রাখা হয়। এলাকায় তাঁরা স্থানীয় যুবলীগ নেতা গোলাম রসুল নিশানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী  প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগরে অন্তত ২০০ কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। একেক দলে রয়েছে ৫ থেকে ১৫ জন। পুলিশের হিসাবে, নগরজুড়ে এসব গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪০০। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রশ্রয় দিচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ৬৪ জন ‘বড় ভাই’। গত ৬ বছরে ৫৪৮টি অপরাধের ঘটনায় কিশোর গ্যাং জড়িত বলে জানায় পুলিশ। এর মধ্যে খুনের ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি।

চলতি বছরের শুরুতে নগর পুলিশের করা এক জরিপে উঠে আসে, নগরে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবম-দশম শ্রেণির ছাত্রদের অনেকে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অভিভাবকদের অগোচরে এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’দের প্ররোচনায় জড়াচ্ছে অপরাধে। শুরুতে তাঁরা হিরোইজম (বীরত্ব) দেখানোর জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পরে তা থেকে বের হতে পারেন না।

নিহত ব্যক্তির মামাতো ভাই সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জলজ্যান্ত একজন মানুষকে দিনদুপুরে পিটিয়ে মারা হলো। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।’




 

Share:

গুলশানে এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী খুন

 

রাজধানীর গুলশানের শাহজাদপুর এলাকায় বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে কর্মরত এক নিরাপত্তারক্ষী খুন হয়েছেন। তাঁর নাম হাসান মাহমুদ (৫৫)। আজ বুধবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহনুর রহমান।

পুলিশ কর্মকর্তা শাহনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গুলশান থানার শাহজাদপুরের মাইশা চৌধুরী টাওয়ারের নিচতলায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে নিরাপত্তাকর্মী হাসান মাহমুদ ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা এটিএম বুথ ভেঙে টাকা চুরির চেষ্টা করেন। তখন বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা হাসান মাহমুদকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

গুলশান থানার পরিদর্শক শাহনুর রহমান বলেন, নিরাপত্তাকর্মী খুনের ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।



Share:

ALL NEWS

Facebook

Powered by Blogger.

Search This Blog

Blog Archive

Recent in Sports

Home Ads

Facebook

Ads

Random Posts

Recent

Popular

Blog Archive

Recent Posts

List

ADS